শবে কদরের রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত
আরো পড়ুনঃ নামাজের জন্য সহজ ১০ সূরা বাংলা অর্থসহ উচ্চারণ
"শবে কদর" ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত। এই রাতটি সংগঠিত হয় রমাজান মাসের শেষ দশকের কোন এক বিজোড় রজনীতে, যেমন- ২১/ ২৩/২৫/২৭ কিংবা ২৯ তারিখের যে কোন একটি রাতে।
এই রাতটি মুসলমানদের জন্য বিশেষ পবিত্র এবং মহান রাত। কারণ, মহান আল্লাহ তায়ালা এই রাতকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে ঘোষণা করেছে। শবে কদরের রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমত, বরকত এবং ক্ষমা প্রদান করেন।
মহা পবিত্র কোরআন মজিদ এবং হাদিস শরীফে শবে কদরের গুরুত্ব এবং ফজিলত ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর আজকের আর্টিকেলে আমরা শেয়ার করবো শবে কদরের গুরুত্ব, ফজিলত, আল্লাহর রহমত এবং কিভাবে এই রাতে ইবাদত করতে হয়, তা বিস্তারিতভাবে। চলুন তাহলে আমরা দেখি-
শবে কদরের রাতের মর্যাদা
শবে কদরের রাতের বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন মজিদে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সূরা আল কদরে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
"শবে কদর রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত। এতে রুহুল আমিন (জিবরাইল আলাইহিস সালাম) প্রতিটি কাজে অবতীর্ণ হন, আর মহান আল্লাহর ইচ্ছায় শান্তি ছাড়া আর কিছুই থাকে না।" সূরা কদর আয়াত- ৩ থেকে ৫)
এখানে পরিস্কার হয়ে উঠে যে, শবে কদর এমনি একট রাত, যা হাজার মাসের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এক হাজার মাস বলতে প্রায় ৮৩ বছর, যা একটি মানুষের জীবন কালের চেয়েও অনেক বেশি। এই রাত্রিতে এবাদত করলে যে পরিমাণ পণ্য পাওয়া যায়, তা হাজার মাসের চেয়েও বেশি এবাদতের সমান।
এই রাত্রিটি মুসলমানদের জন্য অনেক আশীর্বাদ, যা শুধুমাত্র শেষনবী হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা (সাঃ) এর উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ পাক দিয়েছেন। যার মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর কাছ থেকে অশেষ রহমত এবং ক্ষমা লাভের সুজোগ পায়।
শবে কদরের রাতের ফজিলত
শবে কদরের রাতের বিশেষ ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের মাধ্যমে আমাদের জানানো হয়েছে। এই রাতে আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমত বর্ষণ এবং অসীম দয়া করেন, যা মুসলমানদের কাছে অনেক মূল্যবান। নিম্নে শবে কদরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফজিলত সম্পর্কে জানুন-
পাপ থেকে মাফ পাওয়া
পবিত্র হাদিস শরীফে এসেছে, "যদি কোন ব্যক্তি শবে কদরে ঈমান ও ইখলাসের সঙ্গে ইবাদত করে, তবে তাঁর পূর্ববর্তী (জীবনের) সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।" (সহী মুসলিম, বোখারি)
এর থেকে বোঝা যায় যে, শবে কদরের রাতে মহান আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়ার মাধ্যেম তিনি তাঁর পাপী বান্দাদের পাপ ক্ষমা করে দেন, যদি তারা বিশুদ্ধ মন এবং বিশ্বাস নিয়ে তওবা এবং ইবাদত করে।
এই পবিত্র রাতে মহান আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর রহমতের দরজা পূরোপুরিভাবে খুলে দেন এবং জারা কৃতদোষী তারা যদি মহান আল্লাহর লাছে দয়া চাইতে আসে, তাহলে আল্লাহ তা'য়ালা তাদেরকে মাফ করে দেন।
দোয়া কবুল হওয়া
শবে কদরের রাতে মহান আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাদের সকল নেক দোওয়া কবুল করেন। এই সম্পর্কে হাদিসে এসেছে "শবে কদরের রাতে আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাদের রহমত বর্ষণ অরেন এবং তাদের সকল নেক দোওয়া কবুল করেন।" (মুসলিম)
এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, এই পবিত্র রজনীতে বান্দার দোওয়া বিশেষভাবে আল্লাহর কাছে গৃহীত হয়। যদি কেউ এই রাতে নিজের এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের জন্য দোয়া করবে, মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া মেনে নেবেন।
শান্তি ও নিরাপত্তা
শবে কদরের রাতটি শান্তির রাত। মহান আল্লাহ এই রাতে সমস্ত পৃথিবীকে শান্তি এবং নিরাপত্তা দিয়ে পূর্ণ করেন। পবিত্র কোরআন মজিদে শবে কদরের রাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, "শবে কদরের রাত এমন একটি রাত, যাতে কোন প্রকার মন্দ কাজ বা খারাপ কিছু ঘটে না।"
আরো পড়ুনঃ দোয়া কুনুত আরবী বাংলা উচ্চারণ এবং অর্থসহ বিস্তারিত
শবে কদরের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহ তা'য়ালার বিশেষ শান্তি এবং রহমত দিয়ে আচ্ছাদিত থাকে, যা সমস্ত পৃথিবীকে আলোকিত করে রাখে।
শবে কদরের রাতের তারিখ ব সময়
পবিত্র কোরআন মজিদ এবং হাদিস শরীফে শবে কদরের রাতের নির্দিষ্ট কোন তারিখ বা সময় সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা নেই। তবে, হাদিস শরীফ থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে, রমজান মাসের শেষ দশকের কোন একটি বিজোড় রাতে যেমন- ২১/ ২৩/২৫/২৭ বা ২৯ তারিখের মধ্যে হতে পারে।
তবে, ইসলামের দৃষ্টিতে রমজান মাসের শেষ দশকেই বেশি বেশি করে আল্লাহর ইবাদত করা উচিত, কারণ শবে কদর যদিও নির্দিষ্ট কোন দিনে না হলেও, এর (রমজানে শেষ দশকে) সব রাতেই আল্লাহ তা'য়ালার রহমত ও বরকত লাভের অনেক সুযোগ থাকে।
শবে কদরের রাতে ইবাদত
যেহেতু শবে কদরের রাতে ইবাদত করা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি একটি বিশেষ সুযোগ, যখন আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন। তাই এই রাতে কি ইবাদত করা উচিত, তা নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনায় করা হলো-
নফল নামাজ আদায়
শবে কদরের রজনীতে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ পড়া। বিশেষ করে, নফল নামাজের মধ্যে সময় কাটানো মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ ইবাদত। এই রাতে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন, যা শবে কদরের মর্যাদার সঙ্গে মিল রেখে অত্যান্ত পূণ্যময়।
কোরআন তেলাওয়াত
শবে কদরের রাতের অন্যতম এক মহান ইবাদত কোরআন তেলাওয়াত করা। পবিত্র কোরআন হলো মহান আল্লাহর কালাম এবং এই রাতে কোরআন পাঠ করার মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর সঙ্গে একান্ত সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।
দোয়া ও তওবা
শবে কদরের রাতে আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করা এবং অতীতের সকল পাপের জন্য তওবা করা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই রাতে আল্লাহ মঙ্গলময় রাতের বরকতে বান্দাদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেন। তাই মুসলমানদের উচিত নিজের অতীত পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।
শবে কদরের রাতের শিক্ষা
তাছাড়া, শবে কদর আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা যেন সব সময় আল্লাহর দিকে ফিরে আসি এবং তাঁর রহমতের প্রতি আস্থা রাখি। এটি আমাদের আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্য একটি অমূল্য সুযোগ, যা আমাদের পরকালীন জীবন আল্লাহর রহমত লাভে সহায়তা করবে।
রহমত ময় শবে কদরের রাত- শেষকথা
শবে কদর অত্যান্ত পবিত্র এবং মহিমান্বিত একটি রাত। এই রাতে মুসলমানরা আল্লাহর কাছ থেকে রহমত, বরকত, ক্ষমা এবং শান্তি লাভ করতে পারে। এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম এবং যে ব্যক্তি এই রাতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তাঁর সকল দোওয়া কবুল হয়।
তাই সকল মুসলমানদের উচিত শবে কদরের গুরুত্ব অনুধাবন করে, এই রাতে যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত ও দোওয়ার মাধ্যেমে পালন করা। আল্লাহ আমাদের সকলকে এই রাতের রহমত ও বরকত লাভের সুযোগ দিন এবং আমাদের পাপ ক্ষমা করে দিন। আমিন!
আরো পড়ুনঃ আল্লাহর ভালোবাসা লাভের উপায়
প্রিয় পাঠক পাঠিকাগন, আমরা আশাকরি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পেরেছি, "শবে কদরের রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত" সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালোলাগে এবং উপকারি বলে মনে হয়, তাহলে এটি শেয়ার করবেন।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url