গুগল সীট কোন ধরণের সফটওয়্যার? । গুগল সীট কি কি কাজে ব্যবহৃত হয়?

আরো পড়ুনঃ অ্যাডোবি সফটওয়্যার কি? | অ্যাডোবি ফটোশপের কাজ কি?

বর্তমান সময়ের অন্যতম একটি জনপ্রিয় সফটওয়্যার গুগল সীট (Google Sheets), যেটি ব্যবহার করা হয় স্প্রেডশিট ব্যবস্থাপনার জন্য। এটি ক্লাউড ভিত্তিক হওয়ার কারণে, যে কোন ইলেকট্রিক ডিভাইজে সহজেই এক্সেজ করা যায়।

এখানে, একাধিক ব্যবহারকারী একই সময়ে রিয়েল টাইমে কাজ করতে পারে, যেটি দলীয় কাজে সহায়ক। গুগল সীট, সহজে ব্যবহারযোগ্য, ফ্রি ও মাইক্রোসফট এক্সেল বা এমএস এক্সেলের বিকল্প হিসাবে ব্যবহাযোগ্য। 

এটি হিসাব, বাজেট, রিপোর্ট তৈরী, ডাটা বিশ্লেষণ এবং অটোমেশনের জন্য একটি জনপ্রিয় টুল। আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো, গুগল সীট কোন ধরণের সফটওয়্যার ও এর প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং কি কি কাজে ব্যবহার হয়, সে সম্পর্কে। চলুন তাহলে দেখি- 

গুগল সীট কোন ধরণের সফটওয়্যার?- What kind of software is Google Sheets?

ক্লাউড ভিত্তিক একটি স্প্রেডশিট সফটওয়্যার হলো গুগল সীট (Goole Sheets), এটি গুগল ড্রাউভের অন্যতম একটি অংশ হিসাবে ব্যবহার হয়। ডেটা সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং সারণী আকারে এটি মূলত তথ্য উপাস্থাপন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

মাইক্রোসফট এক্সেল (Microsoft Excel) এর অনলাইন বিকল্প হিসাবে গুগল সীট কাজ করে, তবে গুগল সীট অনলাইন ভিত্তিক এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে, ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

গুগল সীটের প্রধান বৈশিষ্ট্য- Main features of Google Sheets

** সহযোগিতা- গুগল সীটে একাধিক ব্যবিহারকারী এক সঙ্গে কাজ করতে পারে। যেমন- ধরুন আপনি যদি কোন একটি স্প্রেডশিটে কাজ করেন, তাহলে আপনার টিমের অন্য সদস্যরা একই সঙ্গে স্প্রেডশিটে পরিবর্তন করতে পারবে রিয়েল টাইমে এবং সকল তথ্যই অটোমেটিকভাবে আপডেট হবে।

** ক্লাউড ভিত্তিক- গুগল সীট সম্পূর্ণভাবে ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকে, এর অর্থহলো, আপনি যে কোন ডিভাইজ থেকে চাইলে (কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন) এক্সেস নিতে পারবেন ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে।

** অফলাইন মোড- আপনি চাইলে গুগল সীট ইন্টারনেট ছাড়াও, ব্যবহার করতে পারবেন, যদি চান অফলাইন মোডে কাজ করতে পারেন। পুনরায় যখন ইন্টারনেট সংযোগ চালু হবে, তখন সমস্ত পরিবর্তন সিঙ্ক হয়ে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

** ডেটা সুরক্ষা- গুগল সীটের একজন ব্যবহারকারী হিসাবে আপনার প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণ এবং সুরক্ষা করতে পারবেন। যেমন- আপনি কাকে আপনার ডেটা এক্সেসের অনুমতি দিবেন তা আপনি নির্ধারণ করতে পারেন।

** এন্ট্রিগ্রেশন- গুগল সীট অন্য যে কোন গুগল অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে যেমন, গুগল স্লাইডস, গুগল ডগস এবং গুগল ফর্মের সঙ্গে খুব সহজে ইন্ট্রিগ্রেট করতে পারেন।

** ভিন্নধর্মী ফাংশন- এমএস এক্সেলের মতো গুগল সীটে সূত্র (formula), ফাংশন, ডেটা বিশ্লেষণ, পিভট টেবিল এবং গ্রাফ বা চার্ট তৈরী করা সম্ভব।

** ফ্রি ব্যবহার- গুগল সীট ব্যবহার করার জন্য কোন প্রকার অর্থ খরচ হয় না। এটি বিনা মূল্যে গুগল একাউন্ট থাকা শর্তে ব্যবহার করা যায়।

গুগল সীট কি কি কাজে ব্যবহৃত হয়?- What are Google Sheets used for?

একটি শক্তিশালী স্প্রেডশিট টুল, গুগল সীট (Google Sheets), যা ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরণের কাজে। এটি ক্লাউড ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন, যা মূলত ব্যবহার করা হয়, ডেটা সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং পরিচালনার জন্য। নিম্নে গুগল সীটের সাধারণ ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

ডেটা বিশ্লেষণ- Data analysis

গুগল সীট ব্যবহার করার মাধ্যমে বিশাল আকারের ডেটা বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এতে সার্চ, ফিল্টার, ডেটা গ্রুপিং এবং অন্যান্য গণনামূলক ফাংশন (যেমন- SUM, AVERAGE, COUNTIF ইত্যাদি) ব্যবহার মাধ্যমে কাজ করা সম্ভব।

এছাড়াও, এখানে ডেটার বিশ্লেষণ আরো সহজ হয়, পিভট টেবিল (Pivot Table) এবং ডেটা ভিজুয়ালাইজেশন (গ্রাফ বা টেবিল) তৈরী করার মাধ্যমে।

টাস্ক ম্যানেজমেন্ট ও প্রজেক্ট প্ল্যানিং- Task Management and Project Planning

গুগল সীট ব্যবহার করা যাবে প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য। কাজের টাস্কগুলো এতে লিস্ট করা, প্রগ্রেস ট্র্যাক করা, তাদের সময়সীমা ঠিক করা এবং দলের সদস্যাদের দায়িত্ব ভাগ করা সম্ভব।

এছাড়াও, গুগল সীটের মাধ্যমে গুগল সীটের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করা, বিভিন্ন গাণিতিক হিসাব নিকাশ করা এবং টেমপ্লেট ব্যবহার করে অনেক সহজ হয় কার্যক্রমকে সংগঠিত করা।

ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট- Database Management

একটি সিম্পল ডেটাবেস হিসাবে গুগল সীট কাজ করতে পারে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের তথ্যের লিস্ট করা, যেমন- নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ইমেইল ইত্যাদি ডেটা সংরক্ষণ করা সম্ভব।

এছাড়াও, খুব সহজেই ডেটা অনুসদ্ধান এবং অডিট করা যায়। এখানে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন কলামে ও রো বা সারিতে ডেটা রাখে এবং প্রয়োজন হলে তা পরিবর্তন করতে বা সাজাতে পারে।

আরো পড়ুনঃ সফটওয়্যার কি?- সফটওয়্যাত কত প্রকার- সফটওয়্যার কি কাজে ব্যবহার হয়

ডাটা এক্সপোর্ট এবং ইম্পোর্ট- Data export and import

গুগল সীট থেকে খুব সহজে ডেটা এক্সপোর্ট এবং ইম্পোর্ট করা যায়। আপনি চাইলে এমএস এক্সেল বা CSV ফরম্যাটে ডেটা এক্সপোর্ট এবং ইম্পোর্ট করতে পারবেন, যা অন্যান্য প্লাটফর্মে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।

এভাবে, গুগল সীট অত্যান্ত কার্যকর, যা বিভিন্ন ধরণের কাজের জন্য ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহার করা যায়, ব্যক্তিগত বিসাব নিকাশ থেকে শুরু করে বড় ধরণের ব্যবসায়িক এবং প্রতিষ্ঠানের কাজে।

এনালিটিক্স এবং রিপোর্টিং- Analytics and reporting

গুগল সীট ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরণের ব্যবসায়িক এবং অন্যান্য বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট তৈরিতে। উদাহরণ স্বরূপ নিম্নে কয়েকটি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- 

  • বিক্রয় রিপোর্ট- গুগল সীটের ব্যবহার করার মাধ্যমে দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় রিপোর্ট তৈরী করা এবং বিশ্লেষণ করা যায় ট্রেন্ড বা আয়ের পরিমাণ।
  • পারফরম্যান্স রিপোর্ট- নির্দিষ্ট কোন কর্মীর বা দলের কার্যকরীতা পর্যালোচনা করে রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব।

ফাইনান্সিয়াল হিসাব নিকাশ- Analytics and Reporting

হিসাব রক্ষণ এবং ফাইনান্সিয়াল ব্যবস্থাপনার জন্য গুগল সীট অত্যান্ত জনপ্রিয় একটি টুল। এখানে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়ীক আয় ব্যয়ের হিসাব, আয় ব্যয়ের রিপোর্ট তৈরী, বাজেট তৈরী  এবং ব্যালেন্স শীট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় এবং সীটের নির্দিষ্ট ফরমূলার মাধ্যমে হিসাব দ্রুত ও সঠিক করা যায়।

অনলাইনে সার্ভে এবং ফর্মের তথ্য সংগ্রহ- Collecting data from online surveys and forms

ব্যবহারকারীদের গুগল সীট, গুগল ফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। যেমন- আপনি যদি একটি ফর্মের মাধ্যমে সার্ভে করতে চান, তাহলে এটির সকল উত্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল সীটে জমা হয়। এটি সহজে বিভিন্ন ডেটা সংগৃহীত এবং বিশ্লেষিত হয়।

এডুকেশনাল কাজের জন্য ব্যবহার- Use for educational purposes

শিক্ষার্থীদের জন্য গুগল সীট অত্যান্ত কার্যকর একটি টুল। এখানে শিক্ষক বা ছাত্ররা বিভিন্ন বিষয়ে তালিকা তৈরী বা পরীক্ষার স্কোর হিসাবের জন্য ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া, শিক্ষার্থীরা গুগল সীটের মাধ্যমে ডেটা পরিসংখ্যান এবং বিশ্লেষণের কাজ সহজে করতে পারে।

বিভিন্ন গ্রাফ এবং চার্ট তৈরী- Creating various graphs and charts

গুগল সীটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের চার্ট ও গ্রাফ তৈরি (যেমন- লাইনার চার্ট, বার চার্ট, পাই চার্ট) সুন্দর করে করা যায়, যা কাজ করে ডেটার ভিজ্যুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন হিসাবে। এই চার্টগুলো কাজে আসে প্রজেক্ট রিপোর্ট, ব্যবসায়িক উপস্থাপনাসহ অন্য যে কোন ডেটা বিশ্লেষণে।

বিভিন্ন সহযোগিতা মূলক কাজ- Various collaborative work

গুগল সীটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কাজ করতে পারা যায় একাধিক ব্যবহারকারী এক সঙ্গে। এখানে একই স্প্রেডশিটে নিজে এবং টিমের সদস্যা একই সঙ্গে কাজ করতে পারেন, বিশেষ করে এটি দলগত বা প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে কাজ করার জন্য উপযুক্ত।

গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্ট বা অটোমেশন- Google Apps Script or Automation

অনেক সময় গুগল সীট ব্যবহার করে অটোমেশন প্রক্রিয়া তৈরী সম্ভব। গুগল অ্যাপস স্ক্রিপ্টের দ্বারা অটোমেশন করা সম্ভব, আপনার সীটের কাজগুলো, যেমন ডেটা আপডেট করা, ইমেইল পাঠানো বা নির্দিষ্ট কোন প্রক্রিয়া চালানো।

হিসাব রক্ষণ এবং বাজেট- Accounting and budgeting

গুগল সীট অত্যান্ত কার্যকর বৈষয়িক হিসাবের জন্য অনেক জনপ্রিয় একটি টুল। এটি অত্যান্ত কার্যকর ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক টাকা খরচের হিসাব রাখা, বাজেট তৈরী, মাসিক আয়- ব্যায়ের রিপোর্ট তৈরী করা এবং গাণিতিক হিসাব করতে।

রিয়েল টাইম কো-অপারেশন- Real time cooperation

গুগল সীট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা কাজ করতে পারেন রিয়েল টাইমে একে অপরের সঙ্গে। এটি  বিশেষভাবে সাহায্য করে দল বা একাধিক ব্যক্তি মিলে কোন কাজ বা প্রকল্প সম্পন্ন করতে চায়।

গুগল সীট ব্যবহারের সুবিধা- শেষকথা- Benefits of using Google Sheets

গুগল সীটের বর্তমান জনপ্রিয়তা এবং বৈশিষ্ট্য বুঝিয়ে দেয় যে, আধুনিক কর্মস্থলে ও ব্যক্তিগত কাজে অত্যান্ত কার্যকরী একটি টুল। এটির প্রকৃতি ক্লাউড ভিত্তিক, রিয়েল টাইম সহযোগিতা এবং অন্যান্য গুগল অ্যাপ্লিকেশনের সথে সরাসরি এন্ট্রিগ্রেশন এর ব্যবহার ও পরিধি আরো বিস্তৃত করেছে।

বিশেষ করে দলগত কাজ, বিভিন্ন ডেটা বিশ্লেষণ এবং হিসাব নিকাশ এবং রিপোর্ট তৈরী করতে অপরিহার্য একটি টুল হয়ে উঠেছে। এর ফিচার ব্যবহারকারী বান্ধব এবং ব্যবহারযোগ্যতা ফ্রি হওয়ার কারণে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে।

এছাড়াও, গুগল সীটের অটোমেশন এবং শিক্ষা, ব্যবসা, সেলফ আপডেট ফিচার এবং অন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয়ী এবং প্রদান করে কার্যকরী উপায়ে কাজ করার সুযোগ, যা ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যান্ত লাভজনক।

প্রিয় পাঠক পাঠিকাগণ, আমরা আশাকরি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পেরেছি, "গুগল সীট কোন ধরণের সফটওয়্যার ও এর প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং কি কি কাজে ব্যবহার হয়" সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যা, আপনাদের অনেক উপকারে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।

আরো পড়ুনঃ কম্পিউটার শেখার মাধ্যমে কিভাবে ক্যারিয়ার তৈরি করবেন

আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালোলাগে ও উপকারি বলে মনে হয়, তাহলে এটি আপনার পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। আরো নতুন নতুন তথ্য জানার জন্য আমাদের পরবর্তী আর্টিকেল পড়ুন এবং আমাদের সঙ্গে থাকুন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url