নাক ডাকার কারণ ও লক্ষণ এবং নাক ডাকা প্রতিরোধে ঘরোয়া উপায়
আরো পড়ুনঃ মেয়েদের বাঁধক রোগ কেন হয় - এর কারণ লক্ষণ চিকিৎসা ও প্রতিকার
নাক ডাকা যদিও, ঘুমের সাধারণ একটি সমস্যা, যা শ্বাস নিতে গেলে গলার নরম টিস্যুর কম্পোনের ফলে ঘটে থাকে। যদিও, এটি মারাত্নক বা জটিল কোন সমস্যা নয়, তবে নাক ডাকার কারণে ঘুমের ব্যঘাত ঘটতে পারে, যা দিনের বেলায় ক্লান্তি অনুভব হয়।
আবার কখনো এটি গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, যেমন হতে পারে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ইঙ্গিত। তাছাড়া, এটি যে কতটা বিরক্তিকর এবং ক্লান্তিকর, তারা জানেন, যারা কখনো তাঁর পাশে ঘুমানো ব্যক্তির নাক ডাকার শব্দ শুনে জেগে উঠছে।
তবে, এই বিষয় নিয়ে চিন্তার নেই, কারণ এই সমস্যা সমাধানের অনেক উপায় রয়েছে, যা আপনাকে এবং আপনার সঙ্গীর শান্তিময় ও আরাময় ঘুমাতে সাহায্য করবে। চলুন তবে দেখে নেই, নাক ডাকার কারণ, লক্ষণ, প্রতিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে-
নাক ডাকার প্রকারভেদ
নাক ডাকা বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে, যেমন অতিরিক্ত বেদ, অস্বাভাবিক শ্বাসনালী, এলার্জি, স্লিপ অ্যাপনিয়া, নাক বা গলার সংক্রমণ বা পানির অভাব। আর এই সকল প্রতিটা কারণের সঙ্গে নাক ডাকার নির্দিষ্ট ধরণ বা আচরণ রয়েছে। নিম্ন ডাকার প্রকারভেদ দেখুন-
- জিহ্বা ভিত্তিক ডাকা- এই নাক ডাকা, যখন জিহ্বা শ্বাসনালীতে বাধার সৃষ্টি করে।
- প্যালাটাল ডাকা- গলার পেশী শিথিল হয়ে তালু নরম এবং ইউভুলার কম্পনের কারণে।
- অনুনানিক ডাকা- এই শ্রেণীর নাকডাকার সৃষ্টি হয়, নাকের কোন বাধা, যেমন- নাক বন্ধ বা সাইপাস সংক্রামণ।
- সংমিশ্রিত ডাকা- এই নাক ডাকার সৃষ্টি বিভিন্ন কারণে হয়, যেমন- জিহ্বা ভিত্তিক এবং অনুনানিক সমস্যা একসাথে ঘটলে।
নাক ডাকার কারণ
- টনসিল বর্ধিত- টনসিল বড় হলে শ্বাসনালী ছোট হয়ে যায় এবং শুরু হয় নাক ডাকা।
- অ্যালকোহল গ্রহণ- গলার পেশিকে শিথিল করে অ্যালকোহল, যা বাধার সৃষ্টি করে শ্বাসনালীতে।
- ঘুমানোর অবস্থান- পিঠের উপর ভর দিয়ে ঘুমালে জিহ্বা পিছনে সরে যায় এবং শ্বাসনালীতে বাধা সৃষ্টি করে।
- অধিক মেদ- অধিক মেদের কারণে, ঘাড়ের আশপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমে এবং শ্বাসনালীতে বাধা সৃষ্টি করে।
- অশ্বাভাবিক শারীরিক কাঠামো- বিচ্যুত সেপটাস, নরম তালু এবং ছোট চোয়াল শ্বাসনালীতে বাধা সৃষ্টি করে।
- নাক বন্ধ হওয়া- এলার্জি, সর্দি বা সাইপাস সংক্রমণ ঘটার ফলে নাক বন্ধ হয়ে যায়, এতে শ্বাস প্রশ্বাসের বাধার সৃষ্টি করে, যা নাক ডাকার কারণ।
নাক ডাকার লক্ষণ
নাক ডাকার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো ঝাঝালো বা কর্কশ শব্দ হওয়া, তবে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ রয়েছে, যেমন- ঘুমে থাকা অবস্থায় বার বার ঘুম থেকে জেগে উঠা, ঘুমের ক্ষেত্রে অস্থিরতা, মাথা ব্যাথা এবং দিনের বেলায় অবসাদ বা ক্লান্তি অনুভব করা। যেমন-
- হাপানোর শব্দ হয় রাতে শ্বাস নিতে।
- দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব বা অতিরিক্ত ক্লান্তি।
- বিরক্তি অনুভব হওয়া বা মনোযোগের সমস্যার সৃষ্টি।
- ঘুম থেকে জেগে উঠার পর গলা এবং মুখ শুকনা শুকনা ভাব।
নাক ডাকার ঝুকি
নাক ডাকা এমন একটি সমস্যা যা, সবাইকে প্রভাবিত করে। তবে, কিছু লোকের মধ্যে এই সমস্যাটি বেশি থাকে, যেমন- পুরুষ মানুষ, অধিক ওজনের মানুষ, বয়সের সঙ্গে পরিবর্তন কিংবা অ্যাপনিয়া রোগীদের মাঝে। নিম্নে জাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়, তা দেখুন-
আরো পড়ুনঃ হার্ট অ্যাটাকের ২০ টি লক্ষণ কারণ চিকিৎসা প্রতিকার
- ধুমপান- ধুমপান শিথিল করে গলার টিস্যুকে।
- লিঙ্গ- নাক ডাকার প্রবণতা বেশি দেখা দেয় পুরুষদের মধ্যে।
- বয়স- নাক ডাকার সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে।
- ওজন বৃদ্ধি পাওয়া- এতে অতিরিক্ত চর্বি জমে ঘাড় এবং গলার চারপাশে।
- অ্যালকোহল ও সেডেটিভস ব্যবহার- এই সকল পদার্থ শ্বাস প্রশ্বাসের বাধার সৃষ্টি করে।
নাক ডাকার চিকিৎসা
নাক ডাকার চিকিৎসা বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে। তবে, এর কিছু বিকল্প চিকিৎসা রয়েছে, যেমন- ঘুমানোর অবস্থান পরিবর্তন, নাকের ডিভাইস ব্যবহার, গলার ব্যায়াম, স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য সিপ্যাপ এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসা হল আদা বা মধু। নিম্নে এ সম্পর্কে আরো দেখুন-
- পজিশনাল থেরাপি- পরিবর্তন করা ঘুমের অবস্থান, যেমন কাত হয়ে শোয়া।
- অনুনাসিক ডিভাইজ- নাকে বায়ু প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য স্ট্রিপ বা স্প্রে ব্যবহার করুন।
- ওরাল অয়াপ্লায়েন্স- ব্যবহার করুন কাস্টম ফিট ডিভাইজ, যা সাহায্য করে শ্বাসনালী খোলা রাখতে।
- সার্জারি- যখন কোন চিকিৎসা কার্যকরী না হয়, তখন টনসিলেক্টকি বা ইউভুলপালা টোফ্যারিঙ্গো প্লাস্টি হতে পারে।
- লাইফ স্টাইল পরিবর্তন- ধুমপান এডিয়ে চলা, ঘমানোর আগে অ্যালকোহল বা সেডেটভস এডিয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।
নাক ডাকা প্রতিরোধে ঘরোয়া উপায়
নাক ডাকা প্রতিরোধের কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় রয়েছে, যেমন ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানি পান করা, ঘুমানোর সময় পাশ হয়ে শোয়া, নাকে স্যালাইন স্প্রে করা, ঘর আর্দ্র রাখা, খালি পেটে মধু বা আদা চা খাওয়া ইত্যাদি। নিম্নে এই সম্পর্কে আরো উপায় দেখুন-
- নাকের চিকিৎসা- নাকের ডাইলেটর বা স্ট্রিক ব্যবহার করা।
- সঠিক ঘুম- ঘুমের আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো।
- পাশ হয়ে শোয়া- চিত হয়ে শোয়ার পরিবর্তে কাত হয়ে শোলে শ্বাসনালী খোলা থাকে।
- মাথা উঁচু করে শোয়া- বিছানার চেয়ে মাথা কিছুটা উঁচু করে শোলে শ্বাসনালী খোলা থাকে।
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন- পুষ্টিকর খাবারর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ওজন কমাতে সাহায্য করে।
- গলার ব্যায়াম- গলার পেশি শক্তিশালী করার জন্য, গান গাওয়া এবং বাতাসের যন্ত্র বাজানো উপকার হতে পারে।
- হিউমিডি ফায়ার- শুস্ক বাতাস হতে পারে নাক ডাকার কারণ, এর জন্য ব্যবহার করা ভালো হিউমিডি ফায়ার।
- অ্যালার্জি এড়িয়ে চলা- আপনার শরীরের থাকা অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ হতে পারে, তাই অ্যালার্জির জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
নাক ডাকার সমস্যা ও সমাধান- শেষকথা
নাক ডাকা যদিও একটি সাখারণ সমস্যা, এই সমস্যাটি সাধারণত বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণ ঘটতে পারে শ্বাসনালীতে। নাক ডাকার সমস্যার কারণে, গলা বা মুখ শিথিল হয়ে যাওয়ার ফলে, হতে পারে শ্বাসপ্রশ্বাসের পথ সংকীর্ণ। এর অন্যতম কারণ মোটা হওয়া, অ্যালার্জি, সর্দি বা বয়সজনীত পরিবর্তন।
আর নাক ডাকা সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম সহজ পদ্ধতি হিসাবে নিয়মিত ব্যায়াম, ঘুমানোর সময় সঠিক উপায়ে ঘুমানো, সুস্থ জীবন যাপন করা এবং আরো উপকার পাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
প্রিয় পাঠক পাঠিকাগণ, আমরা আশাকরি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পেরেছে, "নাক ডাকার কারণ ও লক্ষণ এবং নাক ডাকা প্রতিরোধে ঘরোয়া উপায়" সহ বিভিন্ন তথ্য। যা, আপনাদের অনেক উপকারে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।
আরো পড়ুনঃ মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক কেন হয় এর চিকিৎসা ও প্রতিকার
আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালোলাগে এবং উপকারি বলে মনে হয়, তাহলে এটি অন্যের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আরো নতুন নতুন তথ্য যানার জন্য আমাদের পরবর্তী আর্টিকেল পড়ুন এবং আমাদের সঙ্গে থাকুন, ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url